Blog

dfbdbg
সুরে ও বাণীর মালা ঝরানো বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্য ও সঙ্গীত উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অতুলনীয়। নজরুল বাঙালির চামড়ার নিচে লুকিয়ে থাকা সেই স্বকীয়তা যাকে মনে মনে আবৃত্তি করা যায় আজও।
মহান এই ব্যক্তিত্বের স্মরণে তাঁকে নিয়ে কিছু তথ্যঃ
১। সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় সংগীতজ্ঞ নজরুলের প্রথম গান, ‘বাজাও প্রভু বাজাও ঘন’। পরবর্তীতে প্রায় ৪,০০০ গান লিখা ও সম্পাদনার মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হয় নজরুল গীতি বা নজরুল সঙ্গীত জঁরার। আর ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধকে ছাপিয়ে বিদ্রোহী কবির এইসব গান আর কবিতাতেই মানুষ মূলত খুঁজে পায় মনের যোগসূত্র।
২। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে করতে হয়েছে বিভিন্ন কাজ। কখনো কাজ করেছেন বাসুদেবের কবিদলে, কখনো পালন করেছেন মুয়াজ্জেমের দায়িত্ব অথবা কখনো হয়েছেন রেলওয়ে গার্ডের খানসামা, কখনো আবার কাজ করেছেন রুটির দোকানে। তবে বরাবরই তিনি ঝুঁকেছেন কবিতা, নাটক বা সাহিত্যের পথে। আর তা মূলত হয়েছিল বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল ‘লেটো’তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
৩। বাংলাদেশের জন্মের পূর্বেই তিনি বাংলার মানুষকে তার লেখনীতে করেছিলেন উদ্ধুধ। বিশেষ করে সব ধরণের ধর্মান্ধতা এবং মৌলবাদের বিরোধিতা করে স্বাধীনতা, মানবতা, ভালবাসা এবং বিপ্লবের মতো যে বিষয়সমূহ দার্শনিক নজরুলের রচনাগুলোতে বরাবরই উঠে এসেছে তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ব্যাপকভাবে করেছিল অনুপ্রাণিত।
৪। এছাড়াও নজরুল ছিলেন সাম্যবাদের প্রকৃত একজন অগ্রদূত, যার প্রমাণ মেলে তার চার সন্তানের নামকরণে, যাতে ছিল বাংলা এবং আরবি/ফারসি ভাষার সংমিশ্রণ বা ব্যবহার। অন্নদাশঙ্কর রায় তাই বলেছিলেন— “আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে / ভাগ হয়নিকো নজরুল।”
৫। নজরুল ‘ধূপছায়া ‘ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন যেখানে তিনি নিজে একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। এছাড়াও একাধিক বার তিনি হয়েছেন বিভিন্ন চলচিত্রের সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক। উল্লেখ্য যে, হিন্দিতে নির্মিত ‘চৌরঙ্গী’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ৭টি হিন্দি গানও লেখেন।
৬। তাঁর সীমিত কর্মজীবনে তিনি গান রচনা করেছেন ৩,০০০-এরও বেশি। অধিকাংশ গানে সুরও দিয়েছেন নিজেই। আমরা যাকে নজরুলগীতি বলে জানি।
৬। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ক্রমেই কবি হারাতে থাকেন তার দৃষ্টি ও স্মৃতিশক্তি এবং পরবর্তীতে তার শরীরে ধরা পরে পিক্‌স ডিজিজ (Pick’s Disease) নামক এক বিরল রোগ যা মূলত একটি নিউরনঘটিত সমস্যা। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন। সে সময় বাংলাদেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হয়েছিল এবং ভারতের আইনসভায় কবির সম্মানে পালন করা হয়েছিল এক মিনিট নিরবতা।
৭। দু’হাজার চার সালে বিবিসি বাংলা একটি ‘শ্রোতা জরিপ’-এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো – সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০জনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আসেন কাজী নজরুল ইসলাম।
সাম্যবাদের কবি নজরুল ইসলাম সব সময়ই ধর্মের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর একটি কবিতার বিখ্যাত একটি লাইন ছিল –
‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’
এই জয়গান যেন সকল পরিস্থিতিতে অনুভব করা যায় আপনমনে…

লেখাটি নিয়ে মন্তব্য প্রদান করুন।

Your email address will not be published.